দোহারে উৎসবমুখর পরিবেশে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু: কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ৪৩২ টন লক্ষ্যমাত্রা
সারাদেশের ন্যায় ঢাকার দোহার উপজেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশে ২০২৬ মৌসুমের সরকারি অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলা খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, "বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। এবার দোহার উপজেলায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৪৩২ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকরা যেন তাদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির প্রকৃত ও ন্যায্যমূল্য পান। কৃষকরা যদি সঠিক দাম পান, তবেই তারা ভবিষ্যতে ধান চাষে আরও উৎসাহিত হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।"
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ধান সংগ্রহের এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর মনিটরিং এবং সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন ফায়দা লুটতে না পারে এবং কোনো প্রকৃত কৃষক যেন বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে এক প্রান্তিক কৃষকের সেচ সংকটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "অনেক এলাকায় খাল দখল বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা আজ সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমাদের সরকার প্রধান তারেক রহমান স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ঐতিহাসিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় সারাদেশে চালু করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব সব দখলকৃত খাল মুক্ত করা হবে এবং খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এর ফলে কৃষকরা যেমন নির্বিঘ্নে সেচ সুবিধা পাবেন, তেমনি মৎস্যজীবীরাও মাছ চাষের ব্যাপক সুযোগ পাবেন।"
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ এবং দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, কৃষক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রথম দিনেই কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষকরা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং স্বচ্ছতার সাথে ধান বিক্রির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
