ঢাকা শনিবার, ৩০শে মে ২০২৬, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


নওগাঁয় প্রস্তুত ৮ লাখ পশু: খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সীমান্ত পারাপারের শঙ্কায় খামারিরা


প্রকাশিত:
১৬ মে ২০২৬ ১৩:২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নওগাঁর প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা ব্যাপকভাবে গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে আসায় জেলার বিভিন্ন খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও প্রস্তুতি। তবে ঈদের এখনো দুই সপ্তাহের বেশি সময় বাকি থাকায় জেলার পশুরহাটগুলো পুরোপুরি জমে ওঠেনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর ১১টি উপজেলায় এবার প্রায় ৩৮ হাজার ৯০৯ জন খামারি প্রায় ৮ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করেছেন। জেলায় কোরবানির পশুর মোট চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার। ফলে চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার ৬৭৮টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পশুরহাটে সরবরাহ করা হবে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পশুর লক্ষ্যমাত্রা ও মজুদ সন্তোষজনক হলেও এবার উৎপাদন খরচ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। বাজারে গো-খাদ্যের (ভুষি, খৈল, খড়) দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু লালন-পালনে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়েছে। ফলে ঈদের হাটে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক খামারিরা।

খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশের আশঙ্কায় ভুগছেন সীমান্তবর্তী এই জেলার খামারিরা। তাদের দাবি, ঈদের আগে সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় গরু ঢুকলে দেশি গরুর বাজার ধসে পড়বে।

নওগাঁর কয়েকজন প্রান্তিক খামারি জানান, সারা বছর হাড়ভাঙা খাটুনি ও ধার-দেনা করে তারা পশু প্রস্তুত করেছেন। পশুরহাটে সিন্ডিকেট ও ভারতীয় গরুর প্রবেশ বন্ধ না হলে তাদের পথে বসতে হবে।

কোরবানির হাটে পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং দেশি খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও বাজার মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন জেলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।