রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’: ব্যাংকিং সুবিধাসহ থাকছে নানামুখী বিশেষ ছাড়
বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের সফলতার পর এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে এবং প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রবাসী নাগরিকদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রবাসী-কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই নতুন কার্ডের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মূলত বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই কার্ডের প্রধান উদ্দেশ্য।
এর আগে প্রবাসীদের জন্য বিএমইটি (BMET) কার্ড চালু থাকলেও নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’ হবে আরও আধুনিক ও বহুমুখী। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, এই কার্ডটি প্রবাসীদের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে। কার্ডটিতে একটি কিউআর (QR) কোড থাকবে, যা স্ক্যান করলে প্রবাসীর সব তথ্য পাওয়া যাবে। এটি স্মার্টফোনের মাধ্যমেও ব্যবহার করা যাবে, ফলে সবসময় সাথে রাখার ঝামেলা থাকবে না।
প্রবাসী কার্ডের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর সাথে যুক্ত ব্যাংকিং সিস্টেম। এটি একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে বসেই অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা খরচ মেটাতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সময় প্রবাসীদের পাঠানো টাকা পরিবারের সদস্যরা অপরিকল্পিতভাবে খরচ করে ফেলেন। এই কার্ডের মাধ্যমে খরচের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে, যা প্রবাসীদের আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ সম্মান ও প্রটোকল সুবিধা পাবেন, যাতে তাদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়। এছাড়া সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গড়ে তোলা ‘প্রবাসী সিটি’তে প্লট বা আবাসন ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই কার্ডধারীরা বিশেষ অগ্রাধিকার ও ছাড় পাবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যাদের কাছে বিএমইটি কার্ড আছে, তারাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রবাসী কার্ড পাবেন। তবে যারা পড়াশোনা বা অন্য কাজে বিদেশে গিয়ে বর্তমানে কর্মসংস্থানে যুক্ত আছেন কিন্তু বিএমইটি নিবন্ধন নেই, তাদের জন্যও নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হবে। বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ করা হতে পারে। বিএমইটি কার্ডধারীদের জন্য এটি বিনামূল্যে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সামান্য ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী মনে করেন, কার্ড চালু করাই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, “আগের বিএমইটি কার্ড প্রবাসীদের খুব একটা কাজে আসেনি। নতুন কার্ডটি যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত হয় এবং প্রবাসীরা যেন প্রকৃত অর্থেই সুবিধা পান, সরকারকে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।”
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করছে। এতে রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা এবং প্রবাস ফেরতদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বীমার সুবিধাও যুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে।
