ঢাকা রবিবার, ৩১শে মে ২০২৬, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষ, ফাঁকা রাস্তায় স্বস্তির ফেরা


প্রকাশিত:
৩১ মে ২০২৬ ১২:০৬

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীবাসী। সোমবার (১ জুন) থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত খুলছে, সেই তাগিদে নাড়ির টানে গ্রামে যাওয়া মানুষ ফিরতে শুরু করেছেন ঢাকায়। তবে ছুটির আমেজ কাটতে না কাটতেই ফেরা এই যাত্রীদের মধ্যে নেই কোনো বাড়তি চাপ বা ভিড়। রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও রাস্তাঘাট এখন পর্যন্ত রয়েছে বেশ ফাঁকা।

রোববার (৩১ মে) রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ফেরার পথে যাত্রীদের তেমন কোনো ভোগান্তি নেই। অধিকাংশ যাত্রীই স্বাচ্ছন্দ্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, সবাই একসঙ্গে ফিরছেন না বলে যাত্রীদের চাপ অনেকটা কম। পুরো সপ্তাহজুড়ে ধাপে ধাপে মানুষ ঢাকায় ফিরবেন, ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানী তার চিরচেনা ব্যস্ত রূপ ফিরে পাবে।

বরিশাল থেকে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী ইমরান হোসেন বলেন, "ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার সময় যে তীব্র ভিড় ছিল, ফেরার পথে তার ছিটেফোঁটাও নেই। বাসে কোনো বাড়তি চাপ ছিল না, বেশ আরামেই ঢাকায় পৌঁছেছি।"

গোপালগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, "অনেকে এখনও গ্রামের বাড়িতেই আছেন, তাই ভিড় কম। তবে অফিস-আদালত পুরোপুরি পুরোদমে শুরু হলে দুই-একদিনের মধ্যেই ঢাকার রাস্তাগুলোতে মানুষের চাপ বাড়বে।"

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দায়িত্বরত বাইক রাইডার হাবিব রহমান জানান, সকাল থেকেই যাত্রী আসার হার ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে চাপের চেয়ে স্বস্তির ফিরতি যাত্রাই এখন পর্যন্ত বেশি দেখা যাচ্ছে।

ফরিদপুর থেকে ফেরা ব্যবসায়ী নাফিজ আহমেদ রাস্তা ফাঁকা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এই সময়ে ফেরাটা বেশ আরামদায়ক ছিল, কোনো যানজটে পড়তে হয়নি।"

কুমিল্লা থেকে ফেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাসরিন আলম জানান, সামনে পরীক্ষা থাকায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তিনি একটু আগেই ফিরেছেন। যাতায়াত নির্বিঘ্ন হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামীকাল সোমবার অফিস-আদালত খোলার পাশাপাশি পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিলে রাজধানীতে ফিরতি যাত্রীর চাপ বাড়বে এবং ধীরে ধীরে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে রাজধানী ঢাকা।